HeaderDesktopLD
HeaderMobile

জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন, তবু সংশোধনাগারে গিয়ে আজও দুর্গা গড়েন রাজু

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজো আসে, পুজো যায়। সংশোধনাগারের (jail) উঁচু পাঁচিল টপকে উৎসবের আলো ভেতরে পৌঁছয় না।

বাইরে ঢাকের বাদ্যি শুনে ছটফট করতেন জেলের আবাসিকরা। সেকারণেই ২০১৭ সাল থেকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়।

সেবছরই পক্সো আইনে জেলে বন্দি হয়েছিলেন মৃৎশিল্পী রাজু সরকার। বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের পুজোয় সেবছর দুর্গা প্রতিমা বানাতে শুরু করেছিলেন তিনিই। তারপর বিচারে একদিন নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে ছাড়া পেয়ে যান। তবে সংশোধনাগারের কর্তৃপক্ষের অনুরোধে আজও সেখানকার দুর্গাপ্রতিমা তাঁর হাতেই তৈরি হয়ে আসছে।

দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি ব্লকের শেরপুর এলাকার বাসিন্দা রাজু। বন্দীদশাতেও তিনি মাতিয়ে রেখেছিলেন জেলের অন্যান্য আবাসিকদের। বাংলার ঘরের মেয়ে উমার আবাহনের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল সেবার। এবছরও পুজোর আগে কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে খুশির আমেজ ধরা পড়ল। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আবাসিকদের জন্য রয়েছে ভুরি ভোজের আয়োজন।

কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ দুর্গাপুজোর আয়োজন করছিলেন যখন রাজু সরকার তাঁদের জানান, তিনি নিজেই প্রতিমা গড়তে পারেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই তিনি শুরু করেন দুর্গতিনাশিনীর মূর্তি তৈরির কাজ।

সেই থেকে শুরু। ২০২১ সালে এসেও রাজুই এখনও বানিয়ে চলেছেন নীলগঞ্জের সংশোধনাগারের প্রতিমা। ২০১৭ সালে দুর্গাপুজোর তিন মাসের মাথায় রাজ্য সরকার জামিনে মুক্ত হন। এরপর বিচারে তিনি নির্দোষ খালাসও হয়ে যান। রাজু সরকারের বিশ্বাস, বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের দুর্গা প্রতিমা গড়েই দেবীর আশীষে তাঁর দুর্গতি নাশ হয়েছে।

তাই প্রতিবছরই নিষ্ঠা ভরে তিনি বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের দুর্গা প্রতিমা গড়ে চলেন।

সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষও রাজু সরকারের হাতের তৈরি অপরূপ প্রতিমা পেয়ে খুশি। তাঁরাও বছর বছর রাজুকে দিয়েই দুর্গা প্রতিমা বানান। এবছর প্রতিমার ডাকের সাজ। সেই দুর্গামূর্তিতে থাকছে সবেকিয়ানা।

রাজুর বিশ্বাস, তাঁর মতই শতশত নির্দোষ বন্দীর দুর্গতি নাশ করবেন তাঁর হাতে গড়া দুর্গা।

স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আপডেট পেতে পড়ুন দ্য ওয়াল গুড হেল্থ

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.