HeaderDesktopLD
HeaderMobile

একশো বছরের পুজোয় করোনার থাবা, জাঁকজমক শিকেয় হাড়গ্রামের ব্যানার্জী পরিবারে

0 322

প্রকৃতি প্রস্তত। গাঢ় হওয়া আশঙ্কার মেঘ সরিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে মাতৃ আরাধনার। তবে করোনা পরিস্থিতিতে শারদীয়ার আনন্দ এবার অনেকাংশেই অধরা। উৎসবের মরসুমেও এবার বিষাদের আবহ হাড়গ্রামের প্রাচীন পল্লিতে। সেখানকার ব্যানার্জি বাড়ির পুজোয় এবার কোনও জাঁকজমক হবে না যে! বরং হাতজোড় করে গ্রামের মানুষ আর দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলবেন বাড়ির কর্তারা।

বর্ধমান শহর থেকে ২৭-২৮ কিলোমিটার দূরে হাড়গ্রাম। ভাতার গ্রামের আগে ডানদিকের রাস্তা ধরে চার কিলোমিটার গেলেই এই নির্জন গ্রাম। নির্জন ছায়ামাখা কিন্তু বর্ধিষ্ণু এই পল্লি। এখানকার ব্যানার্জি বাড়ির পুজোর এবার একশো বছর। ৯৯ বছর পেরিয়ে একশোয় পৌঁছে রয়েসয়ে চলতে হচ্ছে। সৌজন্য করোনা ভাইরাস। জীবনের প্রবাহ জারি থাকলেও কোথায় যেন তাল কেটে গেছে। একটা ভয়ের আবহ চারদিকে। তবু তার মধ্যেই মায়ের আরাধনার প্রস্তুতি চলছে ব্যানার্জি বাড়িতে।

এই বাড়ির পুজোর একটা আলাদা গল্প আছে। পুজোর প্রতিষ্ঠাতা বিষ্ণুপদ বন্দ্যোপাধ্যায়। কাছেই জমিদার বাড়িতে ঘটা করে দুর্গাপুজো হত। তাঁর মা একবার পুজো দিতে গিয়ে জানতে পারেন বাবুদের বাড়ির মেয়েরা পুজো দেওয়ার পরেই অন্যরা পুজো দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এই বৈষম্য মনে আঘাত দেয় তাঁর। তখনই তাঁর ছেলে বিষ্ণুপদ কথা দেন, ‘সামনের বছর থেকে মা আমাদের বাড়িই আসবেন।’

উত্তর চব্বিশ পরগনার আমতলা থেকে এখানে এসেছিলেন ব্যানার্জি পরিবার। তাঁদের বাসনের ব্যবসা। দোকানের শাখাপ্রশাখা ছড়িয়ে আছে কলকাতা, উত্তরপাড়া, আন্দুল আর বর্ধমানে। বেশিরভাগই বাইরে থাকেন। এখন শুধু দুই ভাই প্রশান্ত ব্যানার্জি আর উত্তম ব্যানার্জি এখানে অবসরজীবন কাটান। তবে পুজোর কটা দিন গমগম করে বাড়ি। তাঁরা জানান, এ সময় বাইরে থেকে চলে আসেন আত্মীয় পরিজনরা। ঢল নামে গ্রামের মানুষেরও। নবমীতে হয় পাত পেড়ে ভোগ খাওয়া।

সাবেকি প্রতিমায় পুজো হয় ব্যানার্জি বাড়িতে। পুরনো আচারসংহিতা মেনে। এবারেও হবে। তবে জাঁকজমক এবার সীমাবদ্ধ। গ্রামে এখনও কোভিড সেভাবে শিকড় মেলেনি। তবুও সাবধানের মার নেই। মাস্ক আর স্যানিটাইজারের বেড়াজালেই এবার  দেবী আরাধনা হবে হাঁড়গ্রামের ব্যানার্জি বাড়িতেও।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.