HeaderDesktopLD
HeaderMobile

কোন্নগরের ঘোষাল পরিবারে পান্তা ভাতে ইলিশ খেয়ে দশমীর দেবীবরণ

0

 

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্রাট আকবরের শাসনকাল থেকেই স্বনামধন্য কোন্নগরের ঘোষাল পরিবার (ghoshal family)। তাঁদের জমিদারিতে ধুমধাম করে শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজো। সে পুজোকে বারোয়ারি করার জন্য কত চেষ্টাই না করেছিলেন ব্রিটিশ শাসকরা। সেইসময় সাড়ে সাতশো টাকা করে চাঁদা ধার্য হয়েছিল। তারপর কতশত ইতিহাসের ওঠাপড়া! বহু ঝড়ঝাপ্টা পেরিয়ে ৫৬৭ বছরে পা দিল ঘোষাল বাড়ির পুজো। যে পুজো ঘিরে আজও মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। সময়ের ভাঁজে ভাঁজে জমে আছে অনেক অনেক গল্প।

আগে রাতের অন্ধকারে প্রতিমা বিসর্জন দিতে যাওয়া হত বাঘখালে। সেখানে নাকি বাঘে নিয়েছিল পরিবারের একাধিক পুরুষ সদস্যকে। তাই রাতে বিসর্জন বন্ধ হয়ে দিনের আলোয় প্রতিমা ভাসান শুর হয়। সেইসঙ্গে পুরুষ সদস্যদের মঙ্গল কামনায় চালু হয় বেশ কিছু সংস্কার। যা আজও এই পরিবারের ঐতিহ্য।

এখনও দশমীতে দেবী বরণের আগে পান্তাভাতে ইলিশ খান পরিবারের এয়ো স্ত্রীরা। আলতা-সিঁদুর পরে স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

এই পরিবারেরই উত্তরসূরী বিজেপি নেতা প্রবীর ঘোষাল। তাঁর মুখেই ধরা পড়ে একঝলক অতীত। যা তিনি শুনে আসছেন। সম্রাট আকবরের কাছ থেকে সনদ পেয়ে পেয়ে কোন্নগর অঞ্চলে জমিদারির পত্তন করেন আশুতোষ ঘোষাল। ঘোষাল বাড়ির দুর্গাপুজো শুরু হয় তাঁর হাত ধরেই।

আগে পুজোর সব ভার ছিল শেফালি ঘোষালের উপর। করোনা মহামারীর গ্রাসে গত বছরই তাঁকে হারায় ঘোষাল পরিবার। তারপর থেকে ভার নিয়েছেন আরেক সদস্যা।

ঘোষাল বাড়ির পুজোর মূল আকর্ষনই হল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একসময় বরে গুলাম আলি, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়রা ঘোষাল বাড়িতে গান গেয়ে গেছেন। দুবছর আগেও বড় অনুষ্ঠান হয়েছে। করোনা আবহে অনুষ্ঠান কাটছাঁট হয়েছে। তবে এবছর সবই বন্ধ। জমায়েত পুরোপুরি এড়িয়ে চলার পরিকল্পনা করেছেন ঘোষালরা।

করোনা আবহে পুজোর জৌলুস একেবারেই নেই বলে চলে। কেবল পুজোটুকুই হবে, এমনটাই জানালেন ঘোষালরা। প্রতিবছর যাঁরা পুজোয় আসেন তাঁরা অনেকেই এবছর অনুপস্থিত। দেশবিদেশের আত্মীয়রাও আসছেন না এবছর।

ঘোষালদের দালানেই ঠাকুর তৈরি করেন মৃৎশিল্পী। চারদিনের পুজোর আয়োজন ঘিরেই মেতে ওঠেন এলাকার সকলে। করোনা আবহে সেই ছবি ধরা না পড়লেও আবারও সুদিনের অপেক্ষায় ঘোষাল পরিবার।

স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আপডেট পেতে পড়ুন দ্য ওয়াল গুড হেল্থ

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.