HeaderDesktopLD
HeaderMobile

সামদাসবাড়ে সমুদ্রপাড়ের রোদে আতস কাচের আগুনে দেবীর আরাধনা

0

 

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমুদ্রপাড়ের রোদে আতস কাচ (magnifying-glass) ধরে আগুন জ্বালানো হয়। সেই আগুনেই জ্বলে ওঠে যজ্ঞের আগুন। মহা সমারোহে শুরু হয় সামদাসবাড়ের দাস পরিবারের পুজো। ৩০০ বছরের পুরনো সেই পুজো ঘিরে অনেক জনশ্রুতি রয়েছে। শোনা যায়, স্বপ্নাদেশ পেয়ে সমুদ্রতটের জঙ্গল সাফ করে দেবীর পুজো শুরু করেছিলেন নন্দ দুলাল দাস। শুরুতে পটচিত্রের পুজো হত যা এখনও বিষ্ণু সিংহবাহিনী দুর্গা নামে পরিচিত।

দাস পরিবারের কুল দেবতার মন্দিরে মা সিংহবাহিনী দুর্গা অধিষ্ঠিত। বহু বছর ধরে পটচিত্রের পুজো হওয়ার পর ফের মায়ের স্বপ্নাদেশে মূর্তি গড়ে পুজো শুরু হয়। বৈষ্ণব মতে সেই পুজো হওয়ায় পশুবলি প্রথা প্রথম থেকেই নেই। তবে আখ আর চালকুমড়োর বলি এখনও হয়।

শান্তিপুরের ঘরছাড়া যুবক বাগনানের গাঁয়ে এসে করলেন প্রথম দুর্গাপুজো

কথিত আছে, একসময় গভীর রাতে সমুদ্র থেকে উঠে আসতেন মা দুর্গা, বসতেন পুজোর বেদীতে। এখন সমুদ্র অনেকটা পিছিয়ে যাওয়ায় প্রতীকী ঘট তোলা হয় বনেদি বাড়ির দীঘি থেকে। শোনা যায়, দাস পরিবারের জাগ্রত দেবীর কাছে মানত করে আজ পর্যন্ত কেউই বিফল হননি। মা সকলেরই মনোবাসনা পূরণ করে থাকেন। তাই প্রতিবছর দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত আসেন দেবী দর্শনে।

শুধু তাই নয়, দাস পরিবারের পুজোর হোম, যজ্ঞ নিয়েও রয়েছে অনেক চমক। সূর্যের আলোয় আতস কাচ ধরে যজ্ঞের আগুন জ্বালানোর মত চিরাচরিত প্রথা দাস পরিবারের পুজোর অভিনবত্ব। একসময় যজ্ঞে এক মন ঘি ঢালা হত। এখন তা কমে গিয়ে কিলো রূপান্তরিত হয়েছে। তবু আনন্দ আয়োজনের কমতি নেই। আজও সাগরপারের গর্ব দাস বাড়ির দুর্গোৎসব।

অষ্টমীতেই সিঁদুর খেলা হাওড়ার পালবাড়ির পুজোয়

আগে পুজোর পাঁচদিন আশপাশের পাঁচটি গ্রামের মানুষকে পাত পেড়ে মায়ের প্রসাদ খাওয়ানো হত। এখন সেই পাঁচদিনের বদলে একদিন গোটা গ্রামের মানুষকে প্রসাদ দেওয়া হয়।

আগে পুজোর পাঁচদিন মেলা বসত। করোনা পরিস্থিতিতে গত বছর থেকে সেই মেলা বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে দাস পরিবারের সদস্য সংখ্যা শতাধিক। কর্মসূত্রে তাঁরা যে যেখানেই থাকুন পুজোর সময় সকলেই এসে জড়ো হন মণ্ডপে। হইহই করে কেটে যায় পুজোর কটা দিন। সেই আনন্দের অপেক্ষায় আবার পরের বছরের পথ চেয়ে থাকেন এলাকার মানুষ।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.