HeaderDesktopLD
HeaderMobile

হালুয়া-পুরি-ছোলার ডালের ভোগ, বর্ধমান রাজবাড়ির পটেশ্বরী পূজিত দেবীরূপে

0 228

রাজা নেই, রাজত্বও নেই। তবে বর্ধমান রাজবাড়ির পটেশ্বরীর আরাধনা কিন্তু চলে আসছে একই ভাবে। সমস্ত আচার মেনে আজও পূজিতা হন দেবী। তবে এবার কোভিড পরিস্থিতিতে আর সাড়ম্বরে নয়, ভক্তি আর নিষ্ঠায় প্রথা রাখা হবে শুধু। কোভিড সংক্রমণের জেরে রাজা প্রণয়চাঁদ মহতাব আর রানি নন্দিনীও আসছেন না এ বার। তাই পুজোর জাঁকজমক অনেকটাই কম।

প্রতিপদ থেকে শুরু হয়ে গেছে পুজো। নবমীতে নবরাত্রি। প্রথা মেনে হবে গুজরাটি সম্প্রদায়ের ডান্ডিয়া নাচ। সবই হবে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে। বিষাদের আবহেই এবার আনন্দময়ীকে বরণ করবে প্রাচীন বর্ধমান।

পটেই পূজিতা হন পটেশ্বরী। রাজ আমলে দুর্গাপুজোয় বাহান্ন রকমের ভোগ দেওয়া হতো। বড় বড় রুপো ও পিতলের থালায় সাজিয়ে দেওয়া হত সেই ভোগ। এখন সেই ঠাঁট কমতির দিকে। বংশপরম্পরায় রাজ পুরোহিতই মায়ের ভোগ রান্নায় পৌরোহিত্য করে আসছেন। এখন প্রধান পুরোহিত রয়েছেন রাজ পুরোহিতের বংশধর উত্তম মিশ্র।

বর্ধমান রাজাদের ঠাকুরবাড়ি লক্ষীনারায়ণ জিউ মন্দিরে প্রায় ৩০০ বছর ধরে হয়ে আসছে রাজপরিবারের পটেশ্বরী দুর্গাপুজো। উত্তম মিশ্র জানান, দুর্গাপুজোয় সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে দেবীকে বাহান্ন রকমের ভোগ দেওয়া হতো। প্রধানত যে তিনটি ভোগ রাজ আমল থেকেই দিয়ে আসা হচ্ছে, সেগুলি হল হালুয়া, পুরি ও ছোলার ডাল। এই তিনটি প্রধান ভোগ প্রথম থেকেই দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া ৫২ রকমের ভোগে দেওয়া হতো পোলাও, সাদা অন্নভোগ, মালপোয়া, পায়েস, নানা রকমের ভাজাভুজি, চাটনি, মিষ্টি প্রভৃতি। সেই সঙ্গে থাকতো চিনির নৈবেদ্য, আতপ চালের নৈবেদ্য, সিদ্ধ চালের ভোজ্য, নানান রকমের ফল।

তিনি বলেন, ‘‘এবার করোনা আবহে রাজকুমার প্রণয়চন্দ মহতাব ও তাঁর স্ত্রী নন্দিনী মহতাব আসতে পারবেন না। তাই এবারের পুজোয় মাত্র তিন রকমের ভোগ দেওয়া হবে। আর তা হল হালুয়া-পুরি ও ছোলার ডাল।’’

উত্তমবাবু জানান, রাজ আমলে দেখার মতো ভোগ সাজানো হতো। বড় বড় রুপো ও পিতলের থালায় থরে থরে ভোগ সাজাতেন তাঁর পূর্বসূরি ঠাকুরদা, বাবা। তিনশো বছর ধরে এই থালাগুলি ব্যবহার হয়ে আসছিল। রাজত্ব চলে যাবার পর রুপোর থালাগুলি রাজ পরিবারের লোকেরা তুলে নেন। পিতলের থালা গুলি ব্যবহার হতে হতে নষ্ট হয়ে যায়। তার মধ্যে টিকে যাওয়া একটি বড় পিতলের থালায় এখনও ভোগ দেওয়া হয়। নষ্ট হয়ে যাওয়া পিতলের থালার পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে অ্যালুমিনিয়ামের থালা। আগে শালপাতায় করে ভোগের প্রসাদ দেওয়া হতো। এখন আর বাইরের লোককে আগের মত খাওয়ানো হয় না। তবে কেউ যদি আগে বলে যান, তার জন্য ভোগ রাখা হয়।

রাজা মহতাবচাঁদের আমল থেকে এই পুজোর সূচনা। তিনশো বছর আগে জেনানা মহলের গায়ে ছিল দুর্গাদালান। কালের গ্রাসে তা বিলীন। এখন পটেশ্বরীর অধিষ্ঠান রাজবাড়ির কুলদেবতা লক্ষীনারায়ণজিঊ মন্দিরে। এখানে রথযাত্রা, ঝুলন। প্রতিপদ থেকে রাজ আমলের নিয়ম মেনে এখানেই শুরু হয়ে গেছে দুর্গা আরাধনা।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.