HeaderDesktopLD
HeaderMobile

বেনিপুরের বসুবাড়ির দালানদুর্গা পুজোয় প্রথার সঙ্গে মিশবে হরেক স্বাস্থ্যবিধি

0 33

জমি নেই। জমিদারিও নেই। তবুও ছেদ পড়েনি বসু বাড়ির পুজোয়। করোনা আবহে এবারও দীর্ঘ ২৮৭ বছরের ঐতিহ্য মেনে হবে মা উমার আরাধনা।

কথিত আছে, মল্লিকপুর মাহিনগরের বসু পরিবার কয়েকশো বছর আগে মগরাহাট বেনিপুর এলাকায় এসে জঙ্গল সাফ করে বসতি গড়ে তোলে। আস্তে আস্তে বেনিপুর এলাকায় নিজেদের জমিদারিও পত্তন করে। এমনই সময় বসু পরিবারে হানা দেয় ডাকাত দল। লুঠ করে নিয়ে যায় সমস্ত ধন সম্পদ। ঘটনার অভিঘাতে পাগলপ্রায় হয়ে যান তৎকালীন বসু পরিবারের কর্তা বিজয়রাম বসু। এরপর ঘুরতে ঘুরতে তিনি কাশীতে চলে যান। সেখানেই এক সন্ন্যাসীর সংস্পর্ষে আসেন তিনি। ওই সাধুই বিজয়রাম বসুকে বলেন, ২০ জন সাধুকে বেনিপুর নিয়ে গিয়ে যজ্ঞ করতে এবং বাড়িতে মা দুর্গার পুজো করাতে। সেই সন্ন্যাসীর কথা শুনে ঘরে ফিরে দুর্গাপুজো করেন বিজয়রাম। এরপরেই নাকি বসু পরিবার আবার তাদের হারানো সবকিছু  ফিরে পায়।

বিজয়রাম বসুর প্রতিষ্ঠিত মা দুর্গা আজও পূজিতা হন বসু পরিবারে। প্রথমে মা দুর্গার পুজো হত বেনিপুরের এক জঙ্গলে। পরে বসু পরিবারের রামচন্দ্র বসুর উদ্যোগে বাংলা ১১৪০ সনে মা দুর্গার আসন দালান ঘরে স্থান পায়।

ইংরেজির ২০০৮ সালে দালানঘর সংস্কার করেন বসু পরিবারের লোকজন। প্রাচীন প্রথা মেনে আজও বসু পরিবারে একইভাবে পুজিত হন মা দুর্গা। পারিবারিক ঐতিহ্য বলতে রয়েছে ২৪৮ বছরের পুরোনো পিতলের বিশালাকার ঘট ও বেশ কিছু পিতলের বাসনপত্র। যেগুলি শুধুমাত্র দুর্গা পুজোর সময় ব্যবহার করা হয়।

এক সময় মা দুর্গার আরাধনায় দারোয়ান রেখে প্রজাদের মধ্যে খই মুড়কি বিতরণ করা হত। এমনকি এক মন চালের নৈবেদ্যও করা হত। অবশ্য সে সব এখন ইতিহাস। তবুও বসু পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সদস্যরা সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মা দুর্গার আরাধনা করে চলেছেন। তবে করোনার জেরে বিশেষ নিয়ম নীতি রক্ষার মাধ্যমেই এবারে পূজিতা হবেন বসু পরিবারের দালান বাড়ির মা দুর্গা।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.