HeaderDesktopLD
HeaderMobile

জীবনজুড়ে হার্ডলস পেরিয়েছেন লড়তে লড়তে, এখন কুঁড়িদের ফুটিয়ে তোলার পালা রানাঘাটের সোমার

0 801

তখন ক্লাস সিক্সে পড়া ছোট্ট মেয়ে। মাঠের সঙ্গে ভালবাসাবাসির সেই শুরু। দু’চোখে স্বপ্ন। অ্যাথলিট হবেন। পদক এনে গর্বিত করবেন দেশকে।

ভোর থেকে সন্ধে পর্যন্ত কঠোর অনুশীলনের শৃঙ্খলে বাধা জীবন তখন। নিজের চারপাশে যা কিছুই ঘটে যাক, লক্ষ্য থেকে চ্যুত হওয়ার ন্যুনতম কোনও অবকাশ ছিল না। সেই লড়াই তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছে অনেক কিছু। আন্তর্জাতিক আঙিনায় দেশের হয়ে লড়াই করে কখনও তিনি জয় করেছেন সোনা, কখনও রুপো। পেয়েছেন খ্যাতি, সম্মান। আর এখন নিজে খেলা ছাড়ার পরেও মাঠের সঙ্গে সম্পর্কে ছেদ পড়েনি কোনও। বরং প্রতিদিন যেন আরও মজবুত হচ্ছে সেই বন্ধন। আগামী প্রজন্মকে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ যে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় রানাঘাটের মেয়ে সোমা বিশ্বাসকে।

১৯৯২ সালে জাতীয় স্তরে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছিলেন অ্যাথলিট সোমা। ১৯৯৫ সাল থেকে সিনিয়র লেভেলে অংশগ্রহণ। প্রথম আন্তর্জাতিক ইভেন্টে সুযোগ পেয়েছেন ১৯৯৬ সালে। ২০০২ ও ২০০৬ এ পরপর দু’বার এশিয়ান গেমসে সোনা ও রুপো পেয়েছিলেন সোমা। ২০০২ এ হেপ্টাথেলন ও ৪০০ মিটার রিলে রেসে গোল্ড ও সিলভার মেডেল পান সোমা। ২০০৬ এশিয়াডে হেপ্টাথেলনে পান সিলভার মেডেল। তারপরে বছর দুয়েক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন সোমা। ইতিমধ্যেই স্পোর্টস কোটায় চাকরি পেয়েছেন রেলে। ২০০৮ সালে পাকাপাকি ভাবে সরে আসেন খেলার জগৎ থেকে। আর তারপরেই অন্য পরিচয়ে শুরু হয় পথ চলা।

নিজে রানাঘাটের মেয়ে। তাই খুব ভালই জানেন প্রত্যন্ত এলাকাগুলি থেকে খেলাধুলোর মূল আলোকবৃত্তে উঠে আসার জন্য ঠিক কতটা লড়াই করতে হয়। তাই কলকাতা ছেড়ে আবার শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়া। ২০০৯ সাল থেকে রানাঘাটেই অ্যাকাডেমি তৈরি করে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন সোমা। দু’চোখে স্বপ্ন নিয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন কচিকাঁচা আসে সোমার কাছে প্রশিক্ষণ নিতে। কলকাতায় চাকরি-পরিবার-সন্তানদের দায়িত্ব সামলেই নিয়মিত সোমা চলে আসেন রানাঘাটের অ্যাকাডেমিতে।

দেখে নিন সোমার কাহিনি।

তাঁর কথায়, ‘‘আমার অ্যাকাডেমিতে যাঁরা আসে, তাদের বেশিরভাগই নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়ে। সাধ্য না থাকুক, দু’চোখে স্বপ্নতো আছে। আমি সেই স্বপ্নগুলিকেই লালন করতে উৎসাহ দেই। আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করি যাতে খেলাধুলো নিয়ে কেরিয়ার গড়তে পারে ওরা।’’ নিজে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে রয়েছেন এই জগতের সঙ্গে। কত প্রতিভা শুধুমাত্র বিকাশের পরিবেশ না পেয়ে নষ্ট হয়ে যায়, সে সম্পর্কে রয়েছে সম্যক ধারণা। তাই বুক দিয়ে আগলে রাখার চেষ্টা করছেন নতুন কুঁড়িদের। শুধু যে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, তাই নয়। খেয়াল রাখছেন শিক্ষার্থীদের অন্য সুবিধা-অসুবিধার দিকেও।

তাঁর কথায়, ‘‘খেলাধুলোকেও যে পেশা করা যায়, সেই ভাবনাটাই চারিয়ে দিতে চাই আমি। আর অর্থ যেন তাদের স্বপ্নে  কোনও বাধা না হয়।’’

এখন আর পরের পর হার্ডলস নেই সোমার সামনে। তবুও থেমে থাকলে চলবে লা। স্বেচ্ছায় যে তুলে নিয়েছেন আগামী প্রজন্মের ভার। স্বপ্ন দেখা থামিয়ে দিলে কি চলে!

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.