HeaderDesktopLD
HeaderMobile

শক্তির সঙ্গে স্নেহের মিশেল, মানুষের পাশে দক্ষ প্রশাসক ও জনপ্রিয় চিকিৎসক আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর

1 284

অনুপ্রেরণার আর এক নাম আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর। বর্তমানে তিনি পুরুলিয়ার এডিএম। তবে এলাকায় তিনি পরিচিত সকলের প্রিয় ‘ডাক্তার দিদি’ নামে। মুখ না চিনলেও নামে তাঁকে একডাকে চেনেন সব্বাই।

২০১৪ সালে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ডাক্তারি পাশ করেন আকাঙ্ক্ষা। সেই বছরই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি। পড়াশোনায় বরাবরের মেধাবী আকাঙ্ক্ষা এমবিবিএস ডিগ্রির পাশাপাশি একবছরের মধ্যেই হাসিল করেন আইএএস ডিগ্রিও। ২০১৫ সালের আইএএস ব্যাচের ক্যাডার হিসেবে যোগ দেন তিনি। সেই পথচলা শুরু। তার পর কাজের জায়গায় যত এগিয়েছেন জনপ্রিয়তার সঙ্গে সম্মান বেড়েছে আকাঙ্ক্ষার। ক্রমশ পুরুলিয়াবাসীর ঘরের একজন হয়ে উঠেছেন তিনি।

কিন্তু ডাক্তারির ছাত্রী তথাকথিত প্র্যাকটিসের মোহ ছেড়ে এমন পথ পরিবর্তন করলেন কেন?

আকাঙ্ক্ষার বাবাও পেশায় চিকিৎসক। ছোট থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি নিজেও। আকাঙ্ক্ষার কথায়, “ডাক্তারির পেশায় যে স্যাটিসফ্যাকশন রয়েছে এমনটা বোধহয় আর কিছুতেই নেই। আমি সবসময় চেয়েছিলাম মানুষের মধ্যে থেকে কাজ করতে। আমার পেশাকে বৃহত্তর স্বার্থে এগিয়ে নিয়ে যেতে। সেটাই এখন করছি।”

দেখুন আকাঙ্ক্ষার কাহিনি।

তখন আকাঙ্ক্ষা ছিলেন মহকুমা শাসক। এলাকা পরিদর্শনে বেরিয়ে দেখেন ব্লকের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার আসেননি। এদিকে ভিড় বেড়েই চলেছে। নার্স আর ফার্মাসিস্ট মিলে কোনও মতে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সাহায্য করতে এগিয়ে যান আকাঙ্ক্ষা। ডাক্তারির ছাত্রী হওয়ার সুবাদে এবং ডিগ্রি থাকায় কোনও অসুবিধাই হয়নি। চিকিৎসার পাশাপাশি কথার ফাঁকে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন আমজনতার ছোটখাটো সমস্যা। মিষ্টি স্বভাবের আকাঙ্ক্ষাকে আপন করে নেন গ্রামবাসীরাও।

সেই শুরু। সেদিন একাই ৮০ থেকে ১০০ জন রোগীকে দেখেছিলেন আকাঙ্ক্ষা। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাননি। এখন ছুটির দিনে সময় বের করে ঠিক রোগী দেখতে বসে পড়েন তিনি। রোগ-ভোগের সঙ্গে সঙ্গে রোজকার সুখ-দুখের কথাও ডাক্তার দিদির সঙ্গে ভাগ করে নেন সাধারণ মানুষ। আকাঙ্ক্ষা নিজেও বলেন এতে সব রকম ভাবেই তাঁর কাজের সুবিধা হয়।

তাঁর কথায়, “শুধু চিকিৎসক হিসেবে হয়তো যতটা করতে পারতাম প্রশাসক হওয়ায় তার চেয়ে একটু বেশি করতে পারি মানুষের জন্য। গল্পের মাধ্যমে জেনে নিই স্থানীয় পরিষেবামূলক কেন্দ্রগুলো থেকে কতটা সুবিধা পাচ্ছেন ওঁরা। কোথায়ই বা অসুবিধা রয়েছে ওঁদের। এতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে আর নিজের কাজ করতেও সুবিধা হয়। ছুটির দিনে তেমন কাজ থাকে না। ওঁদের নিয়ে বেশ সময় কাটে। অনেক সময় ডাক্তারবাবুরা থাকেন। আমি পাশে এমনিই বসে থাকি। ওঁদের কথা থেকেই জেনে নিই ওঁদের সমস্যা, সুযোগ-সুবিধার অনেক খুঁটিনাটি।“

প্রশাসক হিসেবে আকাঙ্ক্ষার দায়িত্ব অনেক। তায় তিনি আবার চিকিৎসক। প্রাধান্যের তালিকায় রেখেছেন শিক্ষা আর চিকিৎসাকে। এই দুই পরিষেবা সকলের সমান ভাবে পাওয়ার অধিকার রয়েছে বলে মনে করেন আকাঙ্ক্ষা। আর তাই সমাজ বদলের স্বপ্নে বিভোর আকাঙ্ক্ষা বৃহত্তর স্বার্থে নিজের পেশা এবং দায়িত্বকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন । উপলব্ধি করছেন সাধারণ মানুষের সমস্যা। রোজই শিখছেন নতুন কিছু।

You might also like
1 Comment
  1. […] কলেজ হাসপাতাল থেকে ডাক্তারি পাশ করেন আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর। সেই বছরই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসের […]

Leave A Reply

Your email address will not be published.